• Breaking News

    জেজের জোড়া গোল, বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ফাইনালে চেন্নাইয়িন

     

    চেন্নাইয়িন এফসি – ৩  এফসি গোয়া – ০


    (জেজে ২৬, ৯০ গণেশ ২৯)


    প্রথম পর্ব ১-১


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    চেন্নাই, ১৩ মার্চ –


    বেঙ্গালুরু এফসি-কে ফাইনালে তুলতে যেভাবে বাড়তি ভূমিকা নিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী, চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইতিহসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে চেন্নাইয়িন এফসিকে নিয়ে যেতে একইরকম প্রভাব জেজে লালপেখলুয়ার। সুনীল হ্যাটট্রিক করেছিলেন, জেজে পেলেন জোড়া গোল। ২০১৫ সালে একমাত্র খেতাব জেতার দিন যাদের ফাইনালে হারিয়েছিল সেই এফসি গোয়াকেই নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে হারিয়ে ফাইনালে উঠল অভিষেক বচ্চনের দল, তাঁর চোখের সামনেই।। দু-পর্ব মিলিয়ে ফল চেন্নাইয়ের পক্ষে ৪-১। সন্দেহ নেই, যোগ্য দল হিসাবেই বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে আগামী শনিবার শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামে ফাইনালে খেলবে চেন্নাই।

    গোয়া শুরু করেছিল অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে পিছিয়ে থেকে। সহজ সমীকরণ ছিল, অন্তত একটি গোল, পারলে চেন্নাইয়ের আগেই, করে ফেলতে হবে, সমতা ফেরাতে। তেড়েফুঁড়ে শুরুও করেছিল সের্খিও লোবেরার দল। বিশেষ করে প্রথম ২০ মিনিট তাঁদেরই একচ্ছত্র দাপট। কিন্তু সেই দাপটের প্রতিফলন খেলার ফলে ছিল না, কর্নার আর বল দখলের হিসাব ছাড়া। জন গ্রেগরির চেন্নাই সন্তুষ্ট ছিল নিজেদের অর্ধে পিছিয়ে থেকে গোয়ার আক্রমণ আটকে দিয়েই।

    খেলার আগের দিনই দুই কোচ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, নিজেদের খেলার ধরনেই আস্থা রেখে মাঠে নামবে দুই দল। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে চেন্নাই রক্ষণ অটুট রেখে প্রতি আক্রমণে নজর দিয়েছিল। আর গোয়া এগিয়েছিল আক্রমণে। গোয়ার কোচ লোবেরা আগেও বলেছিলেন, কর্নার বা সেট পিসের বিরুদ্ধে তাঁর রক্ষণের দুর্বলতা বেশ কয়েকটি ম্যাচে সমস্যায় ফেলেছিল তাঁকে। কিন্তু সেই জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবলের রাস্তা থেকে সরে যাবে না তাঁর দল। তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে প্রথমার্ধেই দুটি গোল হজম করে ফাইনালের আগেই ছিটকে গেল তাঁর দল। জেজের দ্বিতীয় এবং চেন্নাইয়ের তৃতীয় গোলের সময় ম্যাচ পুরোপুরিই নিয়ন্ত্রণে ছিল চেন্নাইয়ের।

    প্রথম গোল খেলার গতির সম্পূর্ণ বিপরীতে। গোলের কিছুক্ষণ আগেই হেডে গোল করার সুযোগ পেয়েও তিনকাঠিতে রাখতে পারেননি জেজে। প্রায়শ্চিত্ত করলেন ২৬ মিনিটে, শেষ ছ’টি ম্যাচে গোল না পাওয়ার। বাঁদিক থেকে দুরন্ত বল পাঠিয়েছিলেন বক্সে গ্রেগরি নেলসন। জেজে যথারীতি অরক্ষিত, গোয়ার বক্সে দুই ডিফেন্ডারের মাঝে। দেখেশুনে হেড করে বল জালে পাঠান ভারতীয় স্ট্রাইকার।

    তিন মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল। এবার ফ্রি কিক থেকে আবারও নেলসন বল রেখেছিলেন গোয়া বক্সে। আর ধনপাল গণেশকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেননি গোয়ার রক্ষণের কেউই। দূরের পোস্টের দিকে যাচ্ছিল বল, অরক্ষিত গণেশ ঠিক সময়ে মাথা ছুঁইয়ে যান। চেন্নাইয়ের সাফল্যের অন্যতম শর্ত লিগজুড়েই দলের যে কোনও ফুটবলারের গোল করার ক্ষমতা। সেমিফাইনালেও অন্যথা হল না।

    গোয়া চেষ্টা করেনি, এমন নয়। শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল তারা। প্রথমে মন্দার রাও দেশাইয়ের শট যেভাবে সেরেনো বাঁচিয়েছিলেন, পরে গোলরক্ষক করণজিৎ সিংও অন্তত তিনবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছিলেন। পার্থক্য হয়ে দাঁড়াল চেন্নাই রক্ষণের এই অটুট মনোভাব, যে কারণে ম্যাচের সেরার পুরস্কারও নিয়ে গেলেন মেলসন আলভেস। গোয়ার ফুটবলারদের কতগুলো শট যে রক্ষণে ডিফেন্ডারদের পায়ে আটকাল! চেন্নাইয়িনের কৃতিত্ব, এই ম্যাচেও ক্লিনশিট তাঁদেরই।

    [caption id="attachment_4128" align="alignleft" width="1080"] ধনপাল গণেশের গোলের পর। ছবি - আইএসএল[/caption]

    তৃতীয় গোল জেজের। পরিবর্ত হিসাবে মাঠে এসে হাইমে গাভিলান বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেজের দিকে। গোয়ার মহম্মদ আলির কাছে সুযোগ ছিল বল আটাকানোর। কিন্তু পারেননি, বল তাঁর পায়ে লেগে বেরিয়ে গিয়েছিল সুযোগসন্ধানী জেজের জন্য, যিনি ডানপায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, বাঁপায়ের শটে পরাস্ত করেছিলেন গোয়ার গোলরক্ষক নবীন কুমারকে। ৪৩ গোল করেছিল গোয়া ২০ ম্যাচে, ঠিকই। কিন্তু তাঁদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াল ওই ২০ ম্যাচে ৩২ গোল হজম!

    চারবারের হিরো আইএসএল ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালও চেন্নাইকে খেলতে হবে বিপক্ষের ঘরের মাঠে। ২০১৫ ফতোরদার পর ২০১৮ কান্তিরভায়।

    No comments