• Breaking News

    ইউরোপে শততম গোল মেসির, বার্সেলোনা প্রথম আটে

    বার্সেলোনা – ৩   চেলসি – ০


    (মেসি ৩, ৬৩, দেমবেলে ২০)

    প্রথম পর্ব ১-১


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল বার্সেলোনা। টানা ১১ বার, যা রেকর্ড। নিজেদের মাঠে চেলসিকে ৩-০ হারিয়ে সেরা আটে জায়গা নিশ্চিত করলেন লিওনেল মেসিরা।

    ইউরোপে নিজের শততম গোলও পেয়ে গেলেন মেসি, এই ম্যাচে জোড়া গোল করে। ম্যাচে তাঁর দুটি গোলই চেলসির দীর্ঘদেহী গোলরক্ষক কুর্তোয়ার দু-পায়ের ফাঁক দিয়ে। ইংল্যান্ডে চেলসির বিরুদ্ধে প্রথম পর্বে খেলতে যাওয়ার আগে মেসির একটিও গোল ছিল না। দু-ম্যাচ পর তাঁর নামে এখন তিন গোল চেলসির বিরুদ্ধে।

    ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডে প্রথম গোল। তার আগে চেলসি একবারই বলে পা ছোঁয়াতে পেরেছিল, রুডিজের যখন জোড়া পায়ে বলের জন্য গিয়ে প্রান্তরেখার বাইরে পাঠিয়েছিলেন। বাকি ৪১ ছোঁয়া বার্সেলোনার বিভিন্ন ফুটবলারের। সুয়ারেজের পাস থেকে মেসি বল পেয়েছিলেন দুরূহ কোণে। কিন্তু, কুর্তোয়ার দুপায়ের মাঝে ফাঁক দেখে নিয়েছিলেন ঠিক। যে কোনও প্রতিযোগিতায় ক্লাব বা দেশের হয়ে মেসির দ্রুততম গোল। দ্বিতীয় গোলের সময়ও সুয়ারেজেরই পাস। বল ধরে বাঁদিক দিয়ে তীব্র গতিতে চেলসি বক্সে ঢুকে মাটিঘেঁষা জোরালো শটে আবারও কুর্তোয়ার অস্বস্তি বাড়িয়ে দেন মেসি। এক ম্যাচে দু-দু’বার বিপক্ষ গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে গোল, তা-ও ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায়!

    বার্সেলোনার হয়ে অন্য গোল আউসমান দেমবেলের। নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল, মেসিরই পাস থেকে। চেলসি ডিফেন্ডারদের নজর সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন কোনাকুনি দৌড়ে লুইস সুয়ারেজ। কিন্তু তারপরও দেমবেলেকে জোরালো শট নিতে হয়েছিল গোল লক্ষ্য করে যা কুর্তোয়ার হাতে লাগলেও তিনকাঠির বাইরে যায়নি। আর, তার আগে বল নিয়ে মেসির সেই দৌড় এবং সুয়ারেজকে সরে যেতে দেখে ফাঁকায় বাড়িয়ে রাখা আগুয়ান দেমবেলের জন্য।

    কাম্প নু-তে চেলসি মানেই স্মৃতিতে ফিরে আসেন ব্রাজিলীয় রামিরেজ যিনি বার্সেলোনাকে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দেওয়ার পথে প্রথম গোল করেছিলেন ০-২ পিছিয়ে থাকা অবস্থায়, প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। বুধবার গভীর রাতেও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ফ্রি কিক পেয়েছিল চেলসি এবং আলোন্সোর বাঁপায়ের শট বারের ঠিক ওপর দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। সেই সেমিফাইনালে বার্সেলোনার হারের আরও বড় কারণ ছিল অবশ্য মেসির পেনাল্টি মিস। বারে মেরেছিলেন মেসি সেবার, যে ভুল এবার আর করেননি, তিনগোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন দলকে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম সুযোগ পেয়েই।

    ইংল্যান্ডের আরও একটি দলের বিদায়, কিন্তু চেলসি মোটেও আত্মসমর্পণ করেনি, নিজেদের অর্ধে পিছিয়ে চুপটি করে বসেও থাকেনি। আক্রমণে এসেছিল বারবার, বার্সেলোনার রক্ষণকে পরাস্ত করে বেশ কয়েকবার খুলে ফেলেছিল গোলমুখও। কিন্তু তারপরও জিরু, উইলিয়ান, আলোন্সোদের ব্যর্থতায় পায়নি গোল। ঘরের মাঠে নিজেদের অর্ধে পিছিয়ে থেকে বার্সেলোনার ভুলের জন্য অযথা অপেক্ষা করতে করতে নিজেরাই ভুল করে মেসিকে গোলের সুযোগ করে দিয়েছিল চেলসিই। কিন্তু বাইরে এসে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে উঠে আসা ছাড়া উপায় ছিল না। চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি চেলসি, ঠিক। কিন্তু, দু-পর্ব মিলিয়ে চার গোলের মধ্যে সাড়ে তিন গোল যখন নিজের নামে লিখে ফেলেন মেসি, কী-ই বা আর করার থাকে বিপক্ষের!

    No comments