• Breaking News

    ‘ভিকে’ পরাস্ত, ‘ডিকে’ জয়ী, ‘এনআর’-এর ওভারে!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    ‘এনআর’ ক্রিকেটে প্রচলিত শব্দসংক্ষেপ। ক্রিকেট সংক্রান্ত যে কোনও পরিসংখ্যানে ‘এনআর’ থাকে, ‘নো রেজাল্ট’ বোঝাতে। অর্থ, যে ম্যাচ খেলা হয়েছিল কিন্তু ফলহীন। একাদশ আইপিএল-এ কলকাতার ইডেন গার্ডেনস-এ প্রথম খেলায় সেই ‘এনআর’-ই ঘুরিয়ে দিল খেলার ফল। ডিকে বনাম ভিকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন নীতিশ রানা, ইংরেজিতে যাঁর নামের আদ্যক্ষর ‘এনআর’। দিল্লির এই ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি অফব্রেক বোলার কেকেআর-এর হয়ে অভিষেকে প্রথমে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের চাকা। এক ওভারে পরপর দু’বলে এবি ডিভিলিয়ার্স ও বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে। পরে, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসাবে চার নম্বরে নেমে দিল্লির নীতিশ খেলে গেলেন ২৫ বলে ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসও। অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তাঁর জুটিতে উঠেছিল ৫৫ রান, ৪২ বলে।

    ওয়াশিংটন সুন্দরের যে-বলে আউট হলেন নীতিশ, আগের বলেই ছয় মেরেছিলেন। পরের বলেও চালাতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লু। কিন্তু, তাঁর ধারণা হয়েছিল, বল তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অধিনায়ককে। টিভি রিপ্লে দেখিয়ে দেয়, ব্যাট ছুঁয়ে যায়নি বল। কিন্তু, বেঙ্গালুরু ইনিংস যখন ২০০-র লক্ষ্যে দৌড়চ্ছিল, নীতিশ কোনও ভুল করেননি। অধিনায়ক হিসাবে কার্তিকের আইপিএল-এ প্রথম ম্যাচে ইনিংসের ১৫তম ওভারে নীতিশকে বল করতে ডাকা ফাটকা। শুরুতেই বিনয় কুমারের প্রথম ওভারে ১৪ রানের পর বাকি তিন ওভার কাকে দিয়ে করাবেন ভাবনা থেকেই নীতিশকে আনা। প্রথম বলে ডিভিলিয়ার্সের ছয়। গুঞ্জন শুরু, কার্তিকের সিদ্ধান্ত যথাযথ কিনা। ক্রিকেট কেন এক বলের খেলা, পরের বলেই বোঝালেন নীতিশ। ডিভিলিয়ার্স আবারও ছয় মারতে গিয়ে জনসনের হাতে বন্দি হলেন। পরের বলটা ম্যাচের সেরা। অফব্রেক বোলারের হাত থেকে ইয়র্কারে দেশের অধিনায়ক বোল্ড! ১২৭ রানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে ছন্দহারা আরসিবি শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রানে পৌঁছেছিল মনদীপ সিংয়ের ১৮ বলে ৩৭-এর সৌজন্যে। বিনয় কুমার শেষ ওভারে ১৬ রান দিয়ে সুবিধাও করে দেন, বলা বাহুল্য।

    [caption id="attachment_4170" align="alignleft" width="2000"] ব্যাটহাতে বিধ্বংসী নারিন, রবিবার ইডেনে। ছবি - আইপিএল[/caption]

    কলকাতার ব্যাটিংয়ে প্রথম নায়ক অবশ্যই সুনীল নারিন। গত বছর যিনি বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেই ১৫ বলে ৫০ রানে পৌঁছে আইপিএল-এ দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড করেছিলেন এবং এই ম্যাচ খেলতে নামার আগেই জেনে গিয়েছিলেন যে, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙে ১৪ বলে পঞ্চাশে পৌঁছে লিখে ফেলেছেন নতুন রেকর্ড। ক্যারিবিয়ান নারিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। খেলতে পারবেন কিনা, ছিল সংশয়ও। চার ওভারে ৩০ রানে এক উইকেট নারিনসুলভ দাপটে নয়। কিন্তু, ব্যাট হাতে বাঁহাতির ঝড় কলকাতাকে দিয়ে গিয়েছিল ১৭৭ তাড়া করার প্রয়োজনীয় রসদ।

    চার বাউন্ডারি ও পাঁচ ওভারবাউন্ডারির সৌজন্যে ১৭ বলে পঞ্চাশে পৌঁছেছিলেন নারিন। স্কোরবোর্ডে ৬৫, ওভার সবে পাঁচ। ওয়াশিংটন সুন্দর, বোলিংয়ে যাঁর কৃপণ স্বভাব টি টোয়েন্টির এই আইপিএল জগতে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সেই ওয়াশিংটনেরই ৬ বলে ১৯ রান নিয়েছিলেন নারিন, নিজের পঞ্চাশে পৌঁছতে। তার দু’বল পরই আউট। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র পাঁচ ওভারে ৬৫, ওভার-প্রতি ১৩ রানের যে ভিত তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন নারিন তার ওপর দাঁড়িয়েই কার্তিক এবং নীতিশ এগিয়ে নিয়ে যান দলকে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে, নিশ্চিন্তে।

    কার্তিক বলেছিলেন, কখন ব্যাট করতে আসবেন তিনি, ঠিক করাটাই আসল। দেখা গেল, রবিন উথাপ্পা আউট হওয়ার পর মাঠে এলেন তিনি। কেকেআর-এর অন্যতম ধারাবাহিক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর মাঠে এসে শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেন ২৯ বলে ৩৫ করে, নির্ভরতার প্রতিমূর্তি হয়ে। বলহাতে যে বিনয় কুমার প্রথম এবং শেষ ওভারে দিয়েছিলেন ১৪ ও ১৬ রান, জয়ের বাউন্ডারি তাঁর ব্যাট থেকেই।

    সাত বল বাকি থাকতে চার উইকেটে জিতে শুরু হল কেকেআর-এর নতুন অধিনায়কের ইনিংস!

    No comments