• Breaking News

    বিশ্বকাপ আনন্দযজ্ঞে ৬ / পুসকাসের স্বপ্ন খুন! / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    বিশ্বকাপের অদ্ভুত ধারা। ফেভারিট হিসেবে একটি বিশেষ দল ছাড়া যখন অন্য কোনও দলের অস্তিত্ব চোখে পড়ে না চার বছর ধরেসেই দল কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি!

    সুইটজারল্যান্ডে উদ্ভুত এই অদ্ভুত সত্যে প্রমাণের সিলমোহর পড়েছিল আরও ২০ বছর পরজার্মানিতে। এবংকী আশ্চর্যদুবারই স্বপ্ন খুনের আসামী পশ্চিম জার্মানি!

    এলো রেটিংএ ১৯৫৪র হাঙ্গেরি ১৯৭০এর ব্রাজিলেরও আগে!

    নাছাপার ভুল নয়। এলো রেটিং দাবায় থাকেপাঁচবারের দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের দেশের মানুষেরও জানা কথা। তা হলেফুটবলে সে প্রসঙ্গ কেন এল?

    হাঙ্গেরীয় অঙ্কবিদ ড. অ্যারপ্যাড এলো সৃষ্ট র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম মেনে চলে বিশ্ব দাবা সংস্থা ফিডে। সেই এলো রেটিংকে ফুটবলের জন্য ব্যবহার করেছিলেন প্রথম বব রুনিয়ান১৯৯৭ সালে। এখন ফিফার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংএর মতো প্রচলিত না হলেওফুটবলের এলো রেটিংও যথেষ্ট জনপ্রিয়। ফুটবলউৎসাহী পাঠক ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন ইন্টারনেটে।

    যাক গেএলাটিং বেলাটিং সই লোএলো রেটিংও রইলআপাততফেরা যাক হাঙ্গেরিতে।

    হাঙ্গেরির বিপ্লব ১৯৫৬ সালে। কিন্তুহাঙ্গেরিয়ান ফুটবলের বিপ্লব তারও আট বছর আগে। ১৯৪৮ সালে যখন সে দেশের কমিউনিস্ট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলসোশ্যালিস্ট ফুটবল’–এর স্বরূপ দেখাতে হবে বহির্বিশ্বকে। ডেপুটি স্পোর্টস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বুদাপেস্তের প্রাক্তন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা গুস্তাভ সেবেস। তিনিই নির্দেশ দিয়েছিলেনহাঙ্গেরির সেরা ফুটবলারদেরহনভেদ ক্লাবে যোগ দিতে। একে একে সেখানে এসে পৌঁছন ফেরেঙ্ক পুসকাসজোল্টান জিবরস্যান্ডর ককসিসন্যান্ডর হিদেকুটি ও গোলরক্ষক গিউলা গ্রসিকস। তৈরি হয় সেরা ফুটবল দলের নিউক্লিয়াস।

    ১৯৫২ হেলসিঙ্কে অলিম্পিক তাঁদের আয়রন কার্টেন’–এর বাইরে প্রথম বড় প্রতিযোগিতা। সেখানে সেমিফাইনালে সুইডেন ও ফাইনালে যুগোস্লাভিয়াকে হারিয়ে সোনা। তার পরের বছর রোমে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান কাপে ইতালিকে ৩০ হারানোর পর হাঙ্গেরিকে সেরা নাধরে আর উপায় ছিল না।

    ধনাত্মক হোক বা ঋণাত্মকগত শতাব্দীর পাঁচের দশক ফুটবলভাবনায় সংপৃক্ত। হাঙ্গেরি, ‘ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্স’, যদি ইতিবাচকতার অন্যতম সীমা হয়অস্ট্রিয়ারভিয়েনিজ’ ফুটবল যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে পারেসেই অস্ট্রিয়ারই কার্ল রাপ্পান সুইটজারল্যান্ডে গিয়ে ফুটবলকে দিয়ে ফেলতে পারেন নেতিবাচকতার চরম রূপ— সুইসবোল্ট।

    নারক্ষণাত্মক ভাবনা মানেই নেতিবাচকতা নয়। গোল করা ফুটবলে সবচেয়ে বড় কাজ হলে গোল আটকানো খুব পিছিয়ে থাকবে না। চার গোল দিলেও পাঁচ গোল খেলে ফুটবলের কোনও বিরাট উপকার সাধিত হয় নাঠিক। আসলে কাজ তো আর নেতিবাচক হয় নাহয় উদ্দেশ্য। কী কারণে কাজ করা হচ্ছেঠিক করে দেয় কাজের ধরণ।

    রক্ষণাত্মক হওয়া নেতিবাচক হলে ফুটবলে প্রথম ঋণাত্মক ভাবনার কারিগর হারবার্ট চ্যাপম্যান। কিন্তুচ্যাপম্যানের থার্ড ব্যাক’ ছিল প্রয়োজনীয়তা। তিনের দশকে স্যার অ্যালেক্স জেমস আসার পর আর্সেনালের যে প্রাধান্য ইংরেজ লিগ দেখেছিলথার্ড ব্যাকের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছিল ফুটবল বিশ্ব।

    থার্ড ব্যাক আসলে ট্যাকটিকাল চিন্তা। বিপক্ষের সেন্টার ফরোয়ার্ড নিজের দলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে একবার পেরিয়ে গেলে ডিফেন্সিভ থার্ডে যে রাজত্ব করে, ‘টপ হেভি’ এমডব্লু ফর্মেশনের সেই দুর্বলতা কাটাতে চ্যাপম্যানের সে সময়ের যুগান্তকারী ভাবনাসেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে একটু নিচে নামিয়ে বিপক্ষের সেন্টার ফরোয়ার্ডকে আটকানোর দায়িত্ব দেওয়াদুই ব্যাক দুপাশে সরে গিয়ে দুই ইনসাইড ফরোয়ার্ডকে ধরবে আর সেন্টার ফরোয়ার্ড খেলবে একটু নিচে। অর্থাৎফুটবলপাঠক ভাবলেই বুঝবেনপ্রকৃতপক্ষে চ্যাপম্যান তখনই খেলিয়েছিলেন ৩৪। তখন ব্রিটিশরা এত কিছু বোঝেনি। ডিফেন্সে তিন জন দেখে তাঁরা লিখতে শুরু করে ৩৫। এই যে আগের (‌২৫)‌ দুজন ব্যাক থেকে বেড়ে তৃতীয় ব্যাক এল মাঝমাঠ থেকেকমে গেল এক মিডফিল্ডারনাম হল থার্ড ব্যাক। খেলা আরও জমাট হলখুলে গেল নতুন ভাবনার সূত্র।

    রাপ্পানের সুইসবোল্ট সে তুলনায় একেবারেই আলাদা। মার্কারের সঙ্গে সম্পর্কে তুমি নাটআমি বল্টু’, যেন ইস্টবেঙ্গলের জীবনপল্টু! যাঁকে মার্ক করা হচ্ছে,সাইডলাইনের ধারে জল খেতে গিয়েও দেখছেপেছনে মার্কারযার চরম সীমায় পৌঁছতে চেয়ে বলা হয়েছিল, ‘তুমি বাথরুমে তো আমিও’! ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস,হাতপা সমানে চলছেবিরক্তিশুধু বিরক্তিতে খেলা ভুলে যেতে বাধ্য গেমমেকারলাভ রাপ্পানেরফুটবলের লোকসান। রাপ্পান ঋণাত্মককারণতাঁর স্ট্র‌্যাটেজি আঘাত হেনেছিল খেলার ওপরসামগ্রিক খেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাপ্পান চেয়েও ছিলেন তাইখেলার ছন্দ নষ্ট করতে। তাঁর বোল্ট ডিফেন্স গোল দেওয়া বা আটকানো কোনও উদ্দেশ্য নিয়েই নয়শুধুই খেলাটাকে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেতাই নেতিবাচক। ধ্বংসাত্মক চিন্তায় সুইসবোল্ট এগিয়ে কাতানেচিওর চেয়েও।

    ভাবতেও অবাক লাগে হাঙ্গেরি কী করে সেই সময় ২০ বছর পরের প্রেসিং ফুটবলের প্রাথমিক পাঠ দিয়েছিল বিশ্বকে।

    আসলেকোচদের সুদূরপ্রসারী ভাবনা সর্থক রূপ পেয়েছে তখনইহাতে যখন অন্তত চারজন এমন ফুটবলারটেকনিকালি সম্পূর্ণ এবং ট্যাকটিকালি ওয়াকিবহাল। নতুন চিন্তাকে রক্তমাংসের আকার দিতে সক্ষম। গুস্তাভ সেবেসহাঙ্গেরির সেই ফুটবল দলের সর্বময় কর্তার কাজ তুলনায় সহজ হয়ে গিয়েছিল যাঁদের পেয়ে — গোলে গ্রসিকসরক্ষণে বজসিকমাঝমাঠে ককসিসহিদেকুটি আর ওপরে গ্যালপিং মেজর’ ফেরেঙ্ক পুসকাসসঙ্গে আবার জিবর। এমন দল নিয়েই তো ট্যাকটিকাল ইনোভেশন’ সম্ভব!

    কী করেছিল হাঙ্গেরি বলার চেয়ে সহজকী করেনি! ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড অপরাজিত তো বটেইঅপরাজেয়ও ছিল। সেই ইংল্যান্ডকে ওয়েম্বলিতে হারিয়েছিল ৬পরে বুদাপেস্টে ৭১। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই ক্ষত। ফুটবলে ট্রাজেডি বলতে এখনও ইংরেজরা ওই দুই পরাজয়ের কথাই ভাবেআর আতঙ্কিত হয়,অধোবদন হয় লজ্জায়।



    উইলি মেজলঅস্ট্রিয়ার ওয়ান্ডারটিম’ তৈরির কারিগর উগো মেজলএর ভাই যিনি পরে ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেনওয়ার্ল্ড স্পোর্টসএর ফরেন এডিটর এবং ব্রিটিশ ফুটবলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বহু দশকের অভিজ্ঞতার ঝুলি উপুড় করে দিয়েছেন তাঁর সকার রেভলিউশন’ বইতে। ইংল্যান্ডের এই দুই লজ্জাজনক হার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য 

    ‘The so-called speed by which the Hungarians defeated the Englishmen and made them look ridiculous for long stretches, was not one of legs, but originated in the cerebral part of their anatomy. Players of perfect technique and in full possession of their individualities, their fancy and fantasy bridled but not extinguished, beat our quite fast, well-conditioned, but unimaginative soccer-robots. Our capacity for witty soccer-banter, for quick reaction, has been carefully and persistently trained away through about a quarter of a century. If we want to sum up the lessons from the two Hungarian games, it can be done in three words: Brain beat brawn.’

    হাঙ্গেরির ফুটবল আসলে নিজেদের উন্নীত করেছিল, ‘something beyond a Saturday afternoon pastime’, ইংরেজদের পক্ষে যার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল নাপায়ওনি। সান্ত্বনা খুঁজেছিল এই ঠুনকো আত্মপক্ষ সমর্থনে যেওরা ওদের মতোআমরা আমাদের মতোআমাদের পক্ষে যেমন ওদের ধরা সম্ভব নয়ওরাও পারবে না প্রতি শনিবারের এই ব্রিটিশ লিগের ধকল নিতে। অর্থাৎসেই একবগ্গা আমরাই সেরা’ মনোভাবঅমন হার থেকেও শিক্ষা নেব নারক্ষণশীলতার অনমনীয়তা!

    ডিপ লাইং সেন্টার ফরোয়ার্ড’ ছিলেন হিদেকুটি। তখন সেন্টার ফরোয়ার্ড যেখানে দাঁড়াতেনহিদেকুটি খেলতেন তার চেয়ে পেছন থেকে। ফলেতাঁকে মার্ক করা বিশ্বের তাবড় দলগুলোর কাছেও বিভীষিকা। আরও একটু এগিয়ে ভাবলে১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বিশ্বকে যে ৪৪ দিয়ে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল তারই প্রাথমিক রূপ।

    অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আরও কুড়ি বছর পর বিশ্বকাপ পেয়েছিল রাইনাস মিশেলের প্রেসিং ফুটবল যার প্রাথমিক পাঠও ছিল হাঙ্গেরির সেই ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্সের পায়ে। পজিশনাল ফ্লুইডিটি’–র বাংলা ঠিক কী হবেজানা নেইকিন্তুহাঙ্গেরীয়রা বাজিমাত করে গিয়েছিলেন সেই সময় ওই পজিশনাল ফ্লুইডিটি’–র জোরে। তখনকার কোনও দলই যেভাবনা ভাবতেও পারেনি। ছিল গুলিয়েদেওয়া প্রসঙ্গও। সেই সময় ফুটবলারদের জার্সি নম্বর খুব জরুরি ছিলযেফুটবলার যেখানে দাঁড়াতেন তাঁর জার্সির নম্বর ঠিক হত সেইভাবে। মানেসাত নম্বরকে রাইট উইঙ্গার হতেই হবেইত্যাদি। তোহাঙ্গেরি সেই নিয়ম মানেনি। ফলেবিপক্ষ আরও ধাঁধায়কত নম্বরকে কোথায় মার্ক করা হবে বুঝতে বুঝতেই খেলা শেষ।

    যুগের তুলনায় এত এগিয়ে ছিল বলেই সেই দলের সাফল্যের খতিয়ান — ৫০ ম্যাচে ৪২ জয়৭ ড্র। সঙ্গেওই ৫০ ম্যাচে ২১৫ গোলমানে ম্যাচপ্রতি ৪.৩ গোল করে! ফুটবলঐতিহাসিকরা একমতএমন দল ফুটবলে আসেনি।

     

    প্রাথমিক পর্ব

    শেষ ৩০ ম্যাচে অপরাজিতমোট গোল ১২১!

    হাঙ্গেরি এমন রেকর্ড নিয়ে পৌঁছেছিল বিশ্বকাপে। এবং সেই রেকর্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথম দুম্যাচে ১৭ গোল দিয়েছিল যার ৮ গোল পশ্চিম জার্মানিকে।

    এই দলকে রোখা সম্ভব কিনাভাবা শুরু বিশ্বের। কিন্তুএকজন নিশ্চিত ছিলেন রোখা সম্ভব। শেপ হারবারজারপশ্চিম জার্মানির কোচ। গ্রুপ লিগে তাঁর দলের সঙ্গেই ছিল হাঙ্গেরি। হিটলারের দেশের লোকের মস্তিষ্ক বলে দিয়েছিল উপায়। রিজার্ভ বেঞ্চের সাতজন ফুটবলারকে নামিয়েছিলেন গ্রুপ লিগের সেই ম্যাচে। আর সেন্টার হাফ লিয়েবরিখকে দিয়েছিলেন আসল কাজের ভার। সুচারু ভঙ্গিতে সেই কাজ করে গেলেন লিয়েবরিখ। পুসকাসকে এমন ট্যাকল করলেনসোজা ম্যাচের বাইরে। আসলে,প্রতিযোগিতারই বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন জার্মান সেন্টার হাফ। পুসকাস তারপর খেলতে নেমেছিলেন একেবারে ফাইনালেতাও জোর করেই।

    এবংএই প্রশ্নও উঠেছেআলোচনা চলছে বহু জায়গায়জার্মানরা কি ইচ্ছে করেই হেরেছিল ওই ম্যাচটাকেনই বা বিশ্বকাপের আসরে এত বড় ব্যবধানে হারবেকিন্তু,যাদের লক্ষ্য উঁচুতেপ্রতিযোগিতার শুরুতে এমন একটা ম্যাচ হারলে যখন জানাই থাকছে যে বিরাট কোনও পার্থক্য হবে নাকী দরকার হাঙ্গেরিকে বুঝতে দিয়ে যে কতটা তৈরি তাঁরাতা ছাড়াদ্বিতীয় দল নামানোর আসল উদ্দেশ্য তো পুসকাসকে মেরে প্রতিযোগিতার বাইরে করে দেওয়াতা করা গেলেই তো হল! তাই পরের ম্যাচে জুরিখে জার্মানি দলে সাতজন নতুন’ ফুটবলার এবং জয় ৭১ ব্যবধানে! কোনও চিহ্নই নেই হাঙ্গেরির কাছে ৩৮ হারের।

    ইংল্যান্ডের শুরু ৪বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। পরের ম্যাচে সুইটজারল্যান্ডকে হারানো ২০। প্রথম ম্যাচে স্যর স্ট্যানলি ম্যাথুজ ছিলেন। এবারও তাঁকে ছাড়াই দল বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রথমে। কিন্তুশেষ মুহূর্তে ডেকে পাঠানো হয় এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাথুজ ছিলেন স্বমহিমায়। উরুগুয়ের কোনও অসুবিধেই হয়নি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে। ভারেলাআন্দ্রাদেসিয়াফিনো — গতবারের চ্যাম্পিয়নদের তিন সেরা তারকাই ছিলেননতুন এসেছিলেন আব্বাদি। প্রথমে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারানো ২পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ড স্রেফ উড়ে গিয়েছিল ৭১।

    মারাকানার বিপর্যয়ের পর বছর দুই আর মারাকানায় খেলেনিআর জীবনে কখনও সাদা জার্সিতেও খেলেনি ব্রাজিল। কিন্তুচুয়ান্নর বিশ্বকাপে হোসে মোরেইরার প্রশিক্ষণেদলে প্রচুর নতুন মুখ নিয়ে এসেছিল ব্রাজিল। পঞ্চাশের সেরা ত্রয়ী জিজিনিওআদেমিরজেয়ার ছিলেন না। সানতোসভায়েরাজালমা ও নিলতন উঠে এসেছিলেন। সঙ্গে দিদিবালতাজার ও জুলিনিওছিলেন পঞ্চাশের অধিনায়ক বাউয়ারও। মেহিকো উড়ে গিয়েছিল ৫কিন্তু যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে ১১ আটকে গিয়েছিল ব্রাজিল।

     

    কোয়ার্টার ফাইনাল

     

    অস্ট্রিয়াসুইটজারল্যান্ড এই বিশ্বকাপের তো বটেইবোধহয় সর্বকালের সেরা ম্যাচগুলোর তালিকাতেও জায়গা পেয়ে যাবে স্রেফ স্কোরলাইনের জন্য! ৭৫ এবং তা টাইব্রেকারে নয়। টাইব্রেকার তখন কোথায়আয়োজক সুইটজারল্যান্ড ৩০ এগিয়ে গিয়েছিল ১৬১৭১৮ এই তিন মিনিটে তিন গোল করে। ২৫২৬২৮৩২ ও ৩৪ মিনিটে অস্ট্রিয়া এগিয়ে ৫৩! ৩৬ মিনিটে ৫বিরতির ঠিক আগে অস্ট্রিয়ার কোরনার আবার পেনাল্টি মিস করেনশেষ পর্যন্ত ৭৫। কিন্তুসবার চেয়ে বড় যাসুইস অধিনায়ক রজার বোকের এই ম্যাচে খেলা। বহুদিন ধরেই টিউমারের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন বোকে। খেলার পরই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। নিজেই বলেছিলেন সাজঘরে, ‘খেলতে চাই ম্যাচটা। পরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর অপারেশন এবং বেঁচে থাকব কিনাজানি না।’ এই কথার পর আর কেউ কোনও কথাই বলতে পারেননি। বোকে নিজের প্রজন্মের সেরা ফুটবলারের সম্মান পেতেন। ম্যাচেও জান দিয়েই খেলেছিলেন,

    1 comment:

    1. Enjoyed looking through this, very good stuff, regards. http://grsultras.net/

      ReplyDelete