• Breaking News

    ছক্কার ঝরনাধারায় ইডেন ধুইয়ে দিলেন ইশান কিষান!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    রবি ঠাকুরের জন্মদিনে ছক্কার ঝরনাধারায় আলোকোজ্জ্বল ইডেন ধুইয়ে দিলেন ইশান কিষান!


    কুলদীপ যাদবের বলে টানা তৃতীয় ছয়। ১৭ বলে নিজের পঞ্চাশে পৌঁছলেন ইশান কিষান। ঝাড়খন্ডের উনিশ বছরের ব্যাটে তাণ্ডবের সাক্ষী উল্টোদিকে অধিনায়ক। একাদশ আইপিএল-এ দ্বিতীয় দ্রুততম পঞ্চাশের পর রোহিত এগিয়ে এলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন পরম স্নেহে। তাঁর তরুণ তুর্কি তখনও থামার মেজাজে নেই। পরের বলটাও ছয়। ওভারে টানা চারটি। পরের ওভারে সুনীল নারিনের বলে ব্যাট করার সুযোগ পেলেন অধিনায়ক আবারও এক রান নেওয়ায়। প্রথম বলটা মারতে গিয়ে ফস্কালেন, দ্বিতীয় বলে ছয়, তৃতীয় বলে আউট। ২১ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস নিশ্চিত করে দিল, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে নিজেদের ২৩তম ম্যাচে ১৮ বার হারতে চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স!

    শেষ পর্যন্ত হলও তা-ই। ২১১ করলে জিতবে, চাপ মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পরপর উইকেট হারাল কেকেআর, তাঁদের বাদশা মালিকের সামনে। ক্রিস লিন এবং অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের রান আউট, অবশ্যই ‘অদৃশ্য’ রানের সন্ধানে, বুঝিয়ে দিল, ওভারপ্রতি ১০.৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করা সত্যিই কতটা চাপের। আট দলের লড়াইয়ে প্রথম চার থেকেও বেরিয়ে গেল কেকেআর, মুম্বইকে উঠিয়ে আনল চতুর্থ স্থানে। প্লে অফের লড়াইটা কঠিন হল। বাকি তিন ম্যাচে জিতলে ভাল, অন্তত দুটি ম্যাচ জিততেই হবে, প্রথম চারে থাকতে।

    মুম্বই ইনিংসের সেই ১৪তম ওভারে কুলদীপ দিয়েছিলেন ২৫ রান। শেষ অর্থাৎ ২০তম ওভারে আবার ২২ রান দিলেন পীযুষ চাওলা! কলকাতার গর্ব ছিলেন দুই স্পিনার। কুলদীপ দিলেন ৩ ওভারে ৪৩, তাঁকে চতুর্থ ওভার বল করেত দেওয়ার সাহসই দেখাতে পারলেন না দীনেশ কার্তিক। আর পীযুষকে শএষ ওভারে বেন কাটিংয়ের বিরুদ্ধে কেন এনেছিলেন, বোঝা দায়। যদিও তিনটি উইকেট পেলেন পীযুষ, রান দিলেন ৪৮। সুনীল নারিন চার ওভারে ২৭ রান দিয়এ একটি উইকেট পেয়েছিলেন। বাকি দুই স্পিনারকে বারবার মাঠের বাইরে ফেলে মুম্বই বুঝিয়ে দিল, কলকাতাতেও কেকেআর-কে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে নারাজ তাঁরা, গত রবিবারে ওয়াংখেড়ের মতোই।

    কার্তিক টস জিতে আগে ব্যাট করতে ডেকেছিলেন মুম্বইকে, উইকেট শেষদিকেও ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করবে ভেবে। শুরুতে মুম্বইয়ের ওপেনার সূর্যকুমার যাদব (৩২ বলে ৩৬) আর ইনিংসের মাঝে অধিনায়ক রোহিতের (৩১ বলে ৩৬) ইনিংস টেনে নিয়ে গিয়েছিল। হাতখুলে মারার স্বাধীনতা দিয়েছিল প্রথমে কিষান এবং ইনিংসের একেবারে শেষে বেন কাটিংকে। ৯ বলে ২৪ করেছিলেন কাটিং, তিনটি ছক্কার সাহায্যে। ইনিংসে মোট ১৪টি ছক্কা, যার শেষ একেবারে ২০তম ওভারের শেষ বলে, মেরেছিলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।

    প্রথম বলে বাউন্ডারির পরের বলেই নারিন আউট। লিন যে-রানটার সন্ধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন, ছিল না। উথাপ্পার সঙ্গে তাঁর জুটি গড়ে ওঠার মুখেই ভেঙে গেল। এবারের আইপিএল-এর  আবিষ্কার মায়াঙ্ক মারকান্ডের বলে উথাপ্পার বিদায়। কার্তিক নিজেও রান আউট, অনাবশ্যক দৌড়ে। ইডেনের ক্লাব হাউস ফাঁকা হয়ে গেল তখনই, ম্যাচ শেষ ধরে নিয়ে। ধরে নেওয়ারও কিছু ছিল না, সত্যিই যে শেষ। টানা আট ম্যাচে হার মুম্বইয়ের কাছে আর ১০৮ রানে ইনিংস শেষ হওয়া, ১০২ রানে কেকেআর-এর বৃহত্তম হারটা তো শেষকৃত্য!

    No comments