• Breaking News

    বিশ্বকাপ আনন্দযজ্ঞে ১৫/‌ মিল্লা ম্যাজিক, জঘন্য ফুটবল/‌ কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    [avatar user="kashibhatta" size="thumbnail" align="left" /]

    ইতালিতে প্রথম বিশ্বকাপ দেখেছিল মুসোলিনির প্রতাপ। ৫৬ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপে প্লে-অ্যাকটিং, পেনাল্টি আর টাইব্রেকারের হাহুতাশ!

    নিজেদের দেশে বিশ্বকাপে কে–ই বা হারতে চায়? ইতালিও চায়নি। সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন আজেগলিও ভিচিনি, ছিয়াশি বিশ্বকাপের পর বেয়ারজোতের হাত থেকে দায়িত্ব নিয়ে। রক্ষণ দুর্ভেদ্য। বার্গোমি নেতৃত্বে, বারেসি আর মালদিনি আছেন, দোনাদোনি–জিয়ানিনি–দি নাপোলি–ভিয়ালি। বেঞ্চে কোচের ভরসাস্থল হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রোবের্তো বাজ্জিও আর সালভাতোর সিলাচি। তিনকাঠির তলায় জেঙ্গা। সিরি আ–র রমরমা চলছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তখনও নাম হয়নি ক্লাবগুলির ইউরোপিয়ান কাপের। তাতে ১৯৮৯ এবং ১৯৯০, টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এসি মিলান। ডাচ ত্রয়ী মার্কো ফন বাস্তেন–রুড গুলিট–ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড শাসন করছেন বিশ্ব। তার ঠিক দু–বছর আগেই হল্যান্ড প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বড় প্রতিযোগিতায়। ১৯৮৮–তে ইউরোর ফাইনালে গুলিট আর বাস্তেনের অবিশ্বাস্য গোলে রাশিয়াকে হারিয়ে এসেছে খেতাব। ওই দলে তো আবার রোনাল্ড কোয়েম্যানও ছিলেন! ইউরোপে বিশ্বকাপ, ধরেই নেওয়া হয়েছিল, ইতালি আর হল্যান্ডের মধ্যেই হয়ত লড়াই হবে বিশ্বজয়ের। এমন দুটি দল চ্যাম্পিয়ন না হলে আর কারা হতে পারে?

    কিন্তু, যা ধরে নেওয়া হবে তা–ই যদি বাস্তবেও ঘটবে, বিশ্বকাপ কেন?

    প্রথম পর্


    ইতালি প্রথম দিন থেকেই সমস্যায়! গোল খায়নি ঠিক, গোল দিতেই পারছিল না। ভিয়ালি নামে যত, কাজে তত দড় ছিলেন না বিশ্বকাপের শুরু থেকেই। কোচ ভিচিনির আবার খুব পছন্দের, ফলে, ভিয়ালিকে বসাতে রাজি নন। একই সঙ্গে উঠতি বাজ্জিওর প্রতি অ্যালার্জিও ছিল ভিচিনির। প্রথম এগারয় জায়গা দেবেন না কিছুতেই, প্রায় ধনুক–ভাঙা পণ। সিলাচি পরিবর্ত হয়ে এসে গোল পেলেন অস্ট্রিয়া ম্যাচে, জিয়ানিনির গোলে হারানো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে। চেকোস্লোভাকিয়া ম্যাচের আগে আর পারা গেল না, ভিচিনি বাধ্য হলেন একই সঙ্গে সিলাচি এবং বাজ্জিওকে নিয়ে শুরু করতে। ২–০ জিতল ইতালি, ওই দুজনেরই গোলে। এবং, বাজ্জিওর প্রথম গোল বিশ্বকাপে, হয়ে রইল ক্লাসিক। সেন্টার লাইনের বাঁদিকে বল পায়ে পেয়েই জিয়ানিনির সঙ্গে ওয়ান–টু। তারপর একাই এগোলেন, কোণাকুণি, বক্সের ওপর পৌঁছে ডামি, ডানপায়ে গোলরক্ষকের ডানদিক দিয়ে জালে! চার বছর আগের মারাদোনার গোলের সঙ্গে তুলনীয় হয়নি প্রধানত দুটি কারণে। এক, বিপক্ষে ইংল্যান্ড ছিল না। দুই, চেকোস্লোভাকিয়ার প্রচারমাধ্যম ইংরেজদের মতো নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া–গোলকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা তকমা দিতে উঠেপড়ে লাগেনি, রোজ রোজ নানা ছুতোয় তুলেও আনেনি সেই গোলের স্মৃতি। তা ছাড়া, সেই বার বিশ্বকাপও শেষ পর্যন্ত যেহেতু ওঠেনি বাজ্জিওর হাতে, ফিরে দেখতে চাওয়া হয়নি সেই গোলটিকেও।

    বিশ্বজয়ী আর্জেন্তিনা প্রথম ম্যাচেই ভূপতিত, ১৯৮২–র মতো! এবার ওমাম বিয়িক, ক্যামেরুনের হয়ে গোল পেলেন, আর্জেন্তিনীয়রা কেউই পেলেন না। মারাদোনা তখন নাপোলি–সম্রাট। কেন তাঁকে খেলতে হয়েছিল জিউসেপ্পে মেয়াজা ওরফে সান সিরো–তে, এসি মিলান ও ইন্তার মিলানের ঘরের মাঠে, তাই নিয়ে প্রচুর হইচই জুড়েছিলেন আর্জেন্তিনীয় অধিনায়ক। মিলান আর নাপোলি মানে ইতালির উত্তর–দক্ষিণ বিরোধ প্রকাশ্যে, বরাবর। উত্তরের একচ্ছত্র আধিপত্যে যেহেতু মারাদোনা থাবা বসিয়েছিলেন দু–দু’বার সিরি আ চ্যাম্পিয়ন হয়ে, তাঁকে কেউই দেখতে পারত না উত্তর-ইতালিতে, দাবি ছিল আর্জেন্তিনীয় অধিনায়কের, অনেকাংশেই যা সত্যি।

    কিন্তু, তার মানে এমন কখনও নয় যে, মারাদোনার আর্জেন্তিনা খেলেছিল জেতার মতো। ক্যামেরুনের দুজনকে লাল কার্ড দেখানো হয় — কানা বিয়িক ও বেঞ্জামিন ম্যাসিং। দুজনেরই অপরাধ ছিল, ফাউল করেছিলেন কানিজিয়াকে। সোনালি বড় চুলের কানিজিয়া সেবার ভালদানোর পরিবর্ত হিসেবে উঠে এসেছেন। দুর্দান্ত গতি এবং গোল করার সহজাত দক্ষতায় তখন ইতালিরই আতলান্তা–য় অন্যতম ভরসা। বিশ্বে এত দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড তখন তো আর কেউ ছিলেনই না, পরেও খুব কম এসেছেন। প্রথম ম্যাচে তিনি পরিবর্ত। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আসার পরও তাঁকে আটকাতে গিয়েই ক্যামেরুনের দুজনকে দেখতে হয়েছিল লাল কার্ড। তারপরও মারাদোনার আর্জেন্তিনা পারেনি ম্যাচ ড্র রাখতে। তবে, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মারাদোনা লিখেছিলেন সেই ম্যাচ সম্পর্কে, ‘হারলেও জেনে ভাল লাগল, মিলানের লোক আর বর্ণবৈষম্যে বিশ্বাসী নয়। সেই সন্ধেয় ওরা তো আফ্রিকার সমর্থক ছিল!’

    পরের খেলা থেকেই যেহেতু নাপোলির সান পাওলো স্টেডিয়ামে, আর্জেন্তিনার ফুটবলারদের বাড়তি উদ্বুদ্ধ করার জন্য নাপোলি–অধিনায়ক ডাক দিয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের, মাঠে এসে তাঁর দেশের ফুটবলারদের উজ্জীবিত করতে। নাপোলি সেই ডাকে সাড়া দেবে না, এ–ও আবার হয় নাকি? ‘দিয়েগো, দিয়েগো’ চিৎকারে সান পাওলোয় কান পাতা দায়। ২–০ জয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ত্রোগলিও আর বুরুচাগার গোলে। কিন্তু তার চেয়েও বড়, ওই ম্যাচেই আর্জেন্তিনার এই বিশ্বকাপের রক্ষাকর্তা এসে গিয়েছিলেন তিনকাঠির তলায় — সের্জিও গোয়কোচিয়া। পুম্পিদো আর ওলারতিকোয়েচিয়ার সংঘর্ষে পুম্পিদো আহত শুধু নয়, ভেঙে গিয়েছিল পায়ের হাড়, বিশ্বকাপের বাইরে। সদ্য–তরুণ গোয়কোচিয়া যে শেষ পর্যন্ত ‘মিথ’ নয়, সত্যি সত্যিই একার ‘হাতে’ দলকে ফাইনালে নিয়ে যাবেন, সেই ১৩ জুন তো আর ৭ জুলাইয়ের ভবিষ্যৎ দেখা সম্ভব ছিল না! রোমানিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচেও জিততে পারেনি আর্জেন্তিনা। ১–১, একটি পয়েন্ট। গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, তৃতীয়। তখনও পর্যন্ত ওই ২৪ দলের বিশ্বকাপের কারণে চারটি গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দলগুলি পৌঁছতে পারত দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর্জেন্তিনাও তাই গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউটে পৌঁছেছিল, তিন পয়েন্টের সুবাদে।

    ব্রাজিলের সেই দুরন্ত মাঝমাঠ নেই। সেবাস্তিয়াও লাজারোনির ব্রাজিল বরঞ্চ রক্ষণে দড়। কার্যকরী হতে চাওয়া শুরু হয়েছে, দীর্ঘ ২০ বছর বিশ্বকাপ না পেয়ে। সুইডেন, কোস্টারিকা এবং স্কটল্যান্ডকে হারানো, বেশ কসরত করেই। কিন্তু, তিনটি ম্যাচই জিতেছিল, কারেকা-মুলাররা অনেক সুযোগ নষ্ট করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গোল খুঁজে পাওয়ায়। ফ্রান্সিসকো মাতুরানার কলম্বিয়া উঠে আসছে ভালদেরামা–রিনকনদের পেয়ে। পশ্চিম জার্মানির গ্রুপে ছিল, যাদের দায়িত্বে আবারও বেকেনবাওয়ার এবং এবার লোথার ম্যাথাউস নেতৃত্বে উঠে এসেছেন ইন্তার মিলানে দুর্ধর্ষ খেলে। সেই পশ্চিম জার্মানিকেও আটকে দিয়েছিলেন ভালদেরামা–রা, লিটবারস্কির গোল শোধ রিনকনের। কিন্তু, যুগোস্লাভিয়ার কাছে হেরে যাওয়ায়, তৃতীয় হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়াও।

    ইংল্যান্ড ও হল্যান্ড এক গ্রুপে, ইতালির আয়োজকরা সত্যিই চিন্তায় পড়েছিলেন সঙ্গে আবার রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও থাকায়। ববি রবসনের ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক কুয়োয়, হল্যান্ড আবার কোচ লিও বিনহ্যাকারকে নিয়ে সমস্যায়। গুলিট ফিট ছিলেন না, বা কোচের সঙ্গে বনিবনা হয়নি। বাস্তেন জঘন্য ছন্দে, মিশরের বিরুদ্ধেই ল্যাজেগোবরে ইউরোপ–সেরারা। ইংল্যান্ড-হল্যান্ড ০–০। হল্যান্ড কোনও রকমে তিন ম্যাচ ড্র করে, দুটি করে গোল দিয়ে এবং খেয়ে, জ্যাকি চার্লটনের অসম্ভব ‘বোরিং’ রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে লটারিতে হেরে তৃতীয়। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সদস্য জ্যাকি চার্লটন ফিরিয়ে এনেছিলেন আকাশে বল তোলার ব্রিটিশ ঐতিহ্য, যার চেয়ে ভয়ঙ্কর একঘেয়ে কিছু ১৯৯০ সালে ভাবা সম্ভব ছিল না। কিন্তু, যেহেতু দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিলেন, ব্রিটিশরা উদ্বাহু!

    দ্বিতীয় পর্ব


    রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ৫৭ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে এসে ৩৮ বছরের রজার মিল্লা ঢেউ তুলে দিয়েছিলেন জনমানসে। জোড়া গোল এবং ক্যামেরুন জিতেছিল। আর্জেন্তিনার পর রোমানিয়াকেও হারানোয় ক্যামেরুনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস গোটা বিশ্বজুড়েই। তাঁদের লাল শর্টস, সবুজ জামা; গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে মিল্লার সেই কোমর দুলিয়ে নাচ, ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সব কালো মানুষকেই। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে ক্যামেরুনকে নিয়ে যেতে মিল্লা আরও একবার জোড়া গোল করে ফেললেন আর সেই ফাঁকে কলম্বিয়ার মাফিয়াদের দিয়ে গিয়েছিলেন নিজেদের ফুটবলারদের ওপর বিরক্ত হওয়ার জঘন্যতম সুযোগ যা হয়ত চার বছর পর তাদের বাধ্য করেছিল চরম উপায় হাতে নিতে। যাক গে, সে তো চার বছর পরের ব্যাপার, ১৯৯০–তেও কলম্বিয়া যথেষ্ট ভাল দল। রেনে ইগেতা, ঝাঁকড়া বড় চুলের গোলরক্ষক, বিখ্যাত ছিলেন ‘সুইপার’ হিসেবে খেলার ইচ্ছের কারণে। গোল ফাঁকা রেখে উঠে গিয়ে খেলতেন নিজেদের অর্ধের মাঝামাঝি। ‘স্করপিওন’ কিক অর্থাৎ, শরীর সামনে ঝুঁকিয়ে দুই পা পেছনে নিয়ে তুলে দিয়ে উল্টো পায়ে শট মেরে বল বের করে দেওয়ার মহা বিপজ্জনক ভাবনা তো ছিলই। ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে তাঁক ডুবিয়েছিল অবশ্য ‘সুইপার’ হওয়ার প্রচেষ্টা। মিল্লা জানতেন সেই প্রবণতার কথা, দৌড়েছিলেন ইগেতাকে চাপে ফেলতে। ভুল করে ফেলেন ইগেতা। বল নিয়ে ফাঁকায় নিজের দ্বিতীয় এবং ক্যামেরুনকে প্রথম আটে তুলে নিয়ে যাওয়ার গোল করে যান মিল্লা। কলম্বিয়ার বিদায়!

    [caption id="attachment_4367" align="alignleft" width="2880"] রাইকার্ডের সেই থুথু, যার পরে তাঁর সঙ্গে ফোলারকেও লাল কার্ড আর পশ্চিম জার্মানির জয়ের পথ বাধাহীন![/caption]

    পশ্চিম জার্মানি অবশ্য পরিকল্পনায় নিখুঁত! ১৯৭৪, ১৯৮২–র পর আবার ১৯৯০ সালেও। ২৪ জুন সান সিরো দেখেছিল বেকেনবাওয়ারকে, যিনি নিজের দলের রুডি ফোলারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হল্যান্ডের প্রাণভোমরা রাইকার্ডকে উত্তেজিত করে লাল কার্ড দেখতে বাধ্য করতে। ইউরোজয়ীরা সেই প্রথম ম্যাচে জাঁকিয়ে বসতে চেয়েছিল, মাঝমাঠে ক্রুয়েফের ভাবশিষ্য রাইকার্ডের নেতৃত্বে। রাইকার্ড প্রথমে ফাউল করেছিলেন ফোলারকে। কার্ড দেখেন। ফোলারও এতটাই বিরক্ত করে ফেলেছিলেন রেফারিকে রাইকার্ডকে কার্ড দেখাতে বলে যে, নিজেও দেখলেন। তারপরই রাইকার্ডের থুথু ছেটানো ফোলারের দিকে। ফোলার কিছু বলেছিলেন। গালাগাল নিশ্চয়ই, রাইকার্ড এখনও কিছু বলেননি। কিন্তু, ধরে নেওয়া যায় তা বর্ণবিদ্বেষ সংক্রান্তই। না হলে এতটা উত্তেজিত হতে দেখা যায়নি ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ এবং এমনিতে যথেষ্ট ভালমানুষ রাইকার্ডকে, তার আগে। আর্জেন্তিনীয় রেফারি কার্লোস লোউসতাউ দুজনকেই লাল কার্ড দেখালেন ২১ মিনিটে। দশের বিরুদ্ধে দশ, ক্লিন্সম্যান খেললেন সেরা ম্যাচ। ডাচরা বিভ্রান্ত তাদের সেরা ফুটবলারকে হারিয়ে, এটাই তো চেয়েছিলেন বেকেনবাওয়ার! ২–১ জিতল পশ্চিম জার্মানি, ক্লিন্সম্যান ও ব্রেহমের গোল জয়ীদের, ৮৮ মিনিটে সান্ত্বনাসূচক পেনাল্টি রোনাল্ড কোয়েম্যানের। বিশ্বকাপের রঙ কমলা হল না এখনও!

    আর্জেন্তিনা–ব্রাজিল, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর্জেন্তিনা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ছিয়াশি বিশ্বকাপের মারাদোনার ছায়াও নয়। কারণও ছিল, চোট। বাঁ গোড়ালি ফুলে ঢোল, জুতোও পরতে পারছেন না, লিখেছিলেন আত্মজীবনীতে। সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়েছিলেন খালি পায়ে। ‘ব্রাজিল আমাদের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থায় আছে। তবে, এই জন্যই যদি ভেবে নিয়ে থাকে যে, ওরা জিতে গিয়েছে, ভুল ভাবছে। ওরাও কিন্তু আগের ব্রাজিলের মতো খেলছে না। রক্ষণে অনেক বেশি সতর্ক এখন। ব্যক্তিগতভাবে আরও বড় যুদ্ধ আমার কাছে কারণ, কারেকা আর আলেমাওয়ের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। নাপোলিতে সহযোদ্ধা এবং খুবই ভাল বন্ধু। মাঠে গিয়েই ওদের জড়িয়ে ধরব। কিন্তু, পরের ৯০ মিনিট শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়েই ওদের হারাতে চাইব।’ তবু, মারাদোনার আর্জেন্তিনা ভাল খেলতে পারছিল না। মারাদোনার নিজেরই মতে, ম্যাচের প্রথম ৫৫ মিনিট ব্রাজিলেরই। ‘ঢেউয়ের মতো আক্রমণ এসে পড়ছিল আমাদের রক্ষণে। বোধহয় ভাগ্যই বাঁচিয়ে রেখেছিল আমাদের। শট কখনও বারে,কখনও পোস্টে, মুলার–কারেকা সহজতম সুযোগগুলো নষ্ট করছিল... ইতালিতে খেলতে খেলতে একটাই সুবিধে হয়েছিল, শিখেছিলাম হাল না ছাড়তে। প্রতি আক্রমণে উঠলাম গায়ে রিকার্দো রোচা আর আলেমাওকে নিয়ে। কানিজিয়া বাঁদিক দিয়ে উঠছিল। গালভাও আর ব্রাঙ্কো ঘিরে ধরতেই পাস বাড়িয়ে দিলাম কানিজিয়াকে। তাফারেলের সামনে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্বকে দেখাল কানিজিয়া, গোল দিতে হয় কীভাবে! ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম অভিযোগ জানিয়েছিল, আলেমাও নাকি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মারেনি আমাকে, আমাদের বন্ধুত্বের কথা ভেবে। জানি না কী করে ওদের মাথায় এসব আসে! ছোট স্প্রিন্টে ওকে চমকে দিয়েছিলাম। ধরতেই পারেনি। কাছাকাছি আসতে পারলেই ট্যাকলে ফেলে দিত ঠিক। ক্যামেরুন বা অন্যান্য ম্যাচে যেভাবে মারা হয়েছিল, আলেমাও তেমন পারত না ঠিক, কারণ ওর মানসিকতা ওরকম নয়। কিন্তু, মাঠে ব্রাজিলের পক্ষে ওই গোলের আঘাত সহ্য করা সম্ভব ছিল না। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে এবং আবারও প্রমাণিত হয়েছিল, আর্জেন্তিনা মানে শুধু মারাদোনা নয়।’

    আত্মজীবনীতে মারাদোনা এরপর আরও একটি অনুচ্ছেদ রেখেছিলেন। ‘ব্রাজিল সম্পর্কে আরও একটা কথা জরুরি। ওরা বলে বিশ্বকে ওরাই নাকি শিখিয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল। মানি না। আমরাও পারি দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে। শুধু শিখিনি সেই ফুটবলকে কীভাবে বিপণণযোগ্য করে তোলা যায়। ব্রাজিলীয়রা সব সময় সৌন্দর্যের দিকেই নজর দেয়, বৈধ ফুটবলের দিকেও। সে জন্য ওদের ফুটবল বেশ নরমসরম। আমাদের সঙ্গে পার্থক্য এখানেই, আমরা সৌন্দর্যের কথা ভাবি না। যখন প্রয়োজন, টাফ, এমনকি রাফও হতে দ্বিধা করি না। আটকে দিই যেখানে আটকানোর। আমাদের ফুটবল তেমনই, ভুল বুঝবেন না। ব্রাজিলীয়দের জীবনযাত্রা নিয়ে সমস্যা নেই, ওদের যথেষ্ট ভাল লাগে। কিন্তু ফুটবল মাঠে ওরা আমার শত্রু, সবচেয়ে বড় শত্রু। ফুটবল মাঠে ওদের বিরুদ্ধে খেলা আরও কঠিন কারণ কখনও ওরা নিজেদের খেলার ধরন থেকে সরে আসে না, সে মাঠে যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন। ১৯৯৪–তে ওরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বোধহয় ওদের শতাব্দীর কুৎসিততম দল নিয়ে। বিরাশি, এমনকি ছিয়াশির দলও ওই চুরানব্বইয়ের দলকে গুনে গুনে পাঁচ গোল দিত। ভুলের মধ্যে বিরাশির দলটা বড় বেশি উদ্ধত ছিল। ইতালির বিরুদ্ধে ওভাবে আক্রমণে যায় নাকি? স্পেনে ওদের বাড়ি পাঠিয়েছিল ইতালি, আর ইতালিতে আমরা! আমার পাস, কানিজিয়ার গোল, স্মৃতিতে এখনও অমলিন।’

    এ–প্রসঙ্গে বহু দিন পর, ২০০৫ সালের ওয়ার্ল্ড সকার পত্রিকার নভেম্বর সংখ্যায় বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের রোনালদো বলেছিলেন আর্জেন্তিনা–উরুগুয়ের খেলার ধরন প্রসঙ্গে — ‘It's true that the South American players, in particular the Argentinians and Uruguayans, use more gamesmanship and always try to provoke their opponents into losing their temper and getting a red card. These two countries are the specialists in provocation, let's say. When the ball's up the other end of the field, they kick you from behind, they insult your mother, they do everything they can to provoke you.’ লাতিন আমেরিকার তিনটি প্রধান দেশের খেলার ধরন সম্পর্কে লাতিন আমেরিকারই দুটি প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের এই মন্তব্যগুলি থেকে সেই সেই দেশের খেলার ধরন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়ে যায় ফুটবল–ছাত্রের। বিশেষত ‘গেমসম্যানশিপ’ সম্পর্কে, যার হাতে–গরম ‘ডেমো’ দিয়ে গিয়েছিলেন এক এবং অদ্বিতীয় মারাদোনা, ১৯৯০ বিশ্বকাপ জুড়ে।

    টাইব্রেকার শুরু রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড বনাম রোমানিয়ার ম্যাচ থেকে, জ্যাকি চার্লটনের দল যে–ম্যাচ ৫–৪ জিতে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল


    আর্জেন্তিনার সামনে ছিল যুগোস্লাভিয়া এবং আর্জেন্তিনা আবারও গোল করতে ব্যর্থ। সত্যি কথায় যুগোস্লাভরা জিতেই যেত হয়ত, মারাদোনাকে ফাউল করে দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার সাবানাডজোভিচ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে না গেলে। টাইব্রেকারে মারাদোনাও মিস করেন। কিন্তু গোয়কোচিয়া অসাধারণ। ব্রনোভিচ ও হ্যাডজিবেজিচের শট বাঁচিয়ে সেমিফাইনালে নিয়ে যান আর্জেন্তিনাকে। আয়োজক ইতালি তখন গোল না–খাওয়ার রেকর্ড করে ফেলেছে, পঞ্চম ম্যাচেও গোল না খেয়ে। জেঙ্গার সেই রেকর্ড অটুট থেকে যায় কোয়ার্টারেও সিলাচির একমাত্র গোলে জেতায়। চার্লটনের দল অবশেষে বিদায় নিল, স্বস্তি! পশ্চিম জার্মানিও কোনও রকমে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারায় ম্যাথাউসের শেষ দিকের পেনাল্টিতে। আর রজার মিল্লার ক্যামেরুন শেষ পর্যন্ত পরাস্ত ইংল্যান্ডের কাছে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতেই নিজেদের সেরা চার ফুটবলারকে কার্ড সমস্যায় খেলাতে পারেনি ক্যামেরুন। তবুও, ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চিরে ফেলেও নিজেদের স্ট্রাইকারদের দোষেই গোল দিতে না–পেরে অবস্থা জটিলতর করে ফেলেছিল, প্ল্যাটের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর। তারপর, যেমন লেখা হচ্ছিল স্ক্রিপ্ট, মিল্লা এলেন, পাল্টে গেল ক্যামেরুন। প্রথমে গ্যাসকোয়েন ফাউল করলেন মিল্লাকে, পেনাল্টি থেকে গোল কুন্ডের। পরে,মিল্লার দুরন্ত পাস ফাঁকায় সাজিয়ে দিল একেকে–কে, ২–১। গাজ্জা নিজের পেনাল্টি দেওয়ার শোধ তুললেন লিনেকারকে বল বাড়িয়ে যা আটকাতে লিনেকারকে বক্সে ফেলে পেনাল্টি দিল ক্যামেরুন। গোল শোধ লিনেকারেরই। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। এবার ক্যামেরুনের বিপক্ষে গেল সিদ্ধান্ত। গোলরক্ষক এনকোনোর বিরুদ্ধে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেন মেক্সিকোর রেফারি কোদেসাল (‌নামটা মনে রাখুন,ফাইনালে আবার মনে করতে হবে!)‌, অথচ লিনেকারকে ছুঁয়েও দেখেননি এনকোনো। লিনেকার অবশ্য ভুল করেননি গোল করতে। বিশ্বকাপে যে–দল তখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভাল ফুটবল খেলে মন জয় করে নিয়েছিল গোটা বিশ্বের, চলে গেল বাইরে, কোদেসালের সিদ্ধান্তে!

    সেমিফাইনালে তো দুটি ম্যচেরই ফয়সালা টাইব্রেকারে। তার আগে, মারাদোনা পরিষ্কার দুভাগে ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন ইতালিকে। যেহেতু ইতালির বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, নাপোলিতে মারাদোনা চেয়েছিলেন ইতালির ওই উত্তর–দক্ষিণ রেষারেষির সুবিধে তুলতে নাপোলির দর্শকদের ভাঙিয়ে ইতালির বিরুদ্ধে তাঁদের সমর্থন করাতে। এমনিতেই বার্নার্দ তাপির সঙ্গে মারাদোনার কথাবার্তা ভাল চোখে নেয়নি নাপোলি। তারপর এই ইতালি ভাগ করার চেষ্টা, যে–প্রসঙ্গে জিমি বার্নস, মারাদোনার জীবনীকার লিখেছিলেন ‘Maradona:The Hand of God’ বইতে যে, ‘বার্নার্দ তাপির সঙ্গে দলবদলের ব্যাপারে কথা বলা। নাপোলি সভাপতি ফার্লাইনোর সঙ্গে সম্পর্ক আর কখনও জোড়া লাগেনি ওই একটিই কারণে। নাপোলির ফুটবল পাগল জনতাও বিশ্বাস হারাচ্ছিলেন তারপর থেকেই। তা ছাড়া তত দিনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোটের বাহানায় নিজেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমে রোজ রোজ মারাদোনাকে নিয়ে নেতিবাচক খবরে বিভ্রান্ত এবং তিতিবিরক্ত ছিলেন তাঁরাও। তাই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মারাদোনার এই ইতালিকে উত্তর আর দক্ষিণে বিভক্ত করার চেষ্টাকে কেউই ভালভাবে নেননি। মারাদোনার আর্জেন্তিনা সেই ম্যাচ জিতেছিল আবারও টাইব্রেকারে। বারেসি–মালদিনির রক্ষণ ১২০ মিনিট দুর্ভেদ্য থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে আবারও মারাদোনা, কিন্তু চার বছর আগের যে উচ্ছ্বাস মারাদোনাকে ঘিরে ছিল, ১৯৯০তে তা বিস্ময়করভাবে অনুপস্থিত। সামান্য ফাউলকেও অতিনীটকীয় করার চেষ্টা যদি অন্যতম প্রধান  হয়, প্রধান কারণ কিন্তু মাঠের বাইরের স্বরূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ায় মানুষের বীতশ্রদ্ধ মনোভাব এবং মারাদোনা ম্যাজিকের অন্তর্ধান।’

    পশ্চিম জার্মানিও টাইব্রেকারেই হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ম্যাচ একেবারেই প্রত্যাশিত উচ্চতায় ওঠেনি, দীর্ঘদিনের দুই উত্তর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মধ্যে, অতিরিক্ত সময়ে ছাড়া। টাইব্রেকারে জার্মানির তিনে তিন, ইংল্যান্ডের দুর্ভোগ শুরু টাইব্রেকারে পিয়ার্স আর ওয়াডলের মিস দিয়ে। ইংরেজরা এখনও চোখের জল ফেলেন, কী দুর্দান্ত খেলেছিল গ্যাসকোয়েন বলে। ফাইনালে যদি উঠেও যেত ইংল্যান্ড, গাজ্জা খেলতে পারতেন না দুটি হলুদ কার্ডের কারণে, যথাক্রমে ক্যামেরুন ও পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে, একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ফাউলের কারণে, মনে রাখেন কি?

    ফাইনাল



    যে–কারণে গ্যাসকোয়েন খেলতে পারতেন না ফাইনালে উঠলে, একই কারণে কানিজিয়া পারেননি ফাইনালে উঠেও! সেমিফাইনালে বলে হাত লাগিয়ে হলুদ কার্ড দেখে ফাইনালে খেলার রাস্তা বন্ধ করেছিলেন নিজেই। গারিনচার ঘটনা একবারই ঘটেছিল, সেই ১৯৬২ সালে, যখন সেমিফাইনালে দেখা লাল কার্ডকেও এড়িয়ে গিয়ে ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটি নিদান দিয়েছিল, খেলতে পারবেন গারিনচা,ফাইনালে। কানিজিয়ার সময় তা আর সম্ভব ছিল না। বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও খেলতে না–পারার এই দুঃখেই কি নিকট ভবিষ্যতে কানিজিয়ার ড্রাগাসক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা? নাকি মারাদোনার সঙ্গে মেলামেশার কারণে, জানা যায়নি। বাজ্জিও আর সিলাচি ইতালিকে এনে দিয়েছিলেন তৃতীয় স্থান। ওদিকে ফাইনালের নাটক রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে।

    এমনিতেই নাপোলির বাইরে গোটা ইতালিতে মারাদোনা সেভাবে জনপ্রিয় ছিলেন না কখনও। সেমিফাইনালে তাঁর আর্জেন্তিনার কাছে ইতালির হার, রোমার মাঠে ইতালীয়দের বাধ্য করেছিল মারাদোনার বিরুদ্ধে অবিরাম বিদ্রুপাত্মক শব্দ করে যেতে। মাঠে মারাদোনার পারফরম্যান্সও তথৈবচ। চার বছর আগের ভুল আর করেননি বেকেনবাওয়ার। বুখভাল্ডকে লাগিয়ে রেখেছিলেন পুরো সময়ের জন্যই,আগের বার ফাইনালে ম্যাথাউসকে সরিয়ে নেওয়ার ভুল আর না–করে। কিন্তু, নিজের ফোলার–ক্লিন্সম্যানরাও ক্লান্ত ছিলেন। মোনজোন যেভাবে ক্লিন্সম্যানকে ফাউল করলেন, গ্ল্যনভিল লিখেছেন ‘শকিং’,দেখতেও তাই–ই! কিন্তু, তার আগে গোয়কোচিয়া পেনাল্টি বক্সে ফেলে দিয়েছিলেন অগেনথেলারকে, যে–পেনাল্টিটা দিয়েছিলেন কোদেসাল তার চেয়ে এই ফাউলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলে অনেক বিতর্ক এড়ানো যেত সহজে। দেজোতিও লাল কার্ড দেখেন কোহলারকে ফাউল করে। তারপর সেনিসিনি বক্সে ফোলারকে ফেলে দেন, পেনাল্টি দিতে দেরি করেননি কোদেসাল, যদিও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই গিয়েছে। ব্রেহমের পেনাল্টি বাঁচাতে আর্জেন্তিনাকে একার হাতে ‘ফাইনালে’ টেনে নিয়ে যাওয়া গোয়কোচিয়া ঠিক দিকে লাফালেও, বাঁচাতে পারেননি। ফলে, শেষবার পশ্চিম জার্মানি হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে এসে ট্রফি ম্যাথাউসদের। ছেষট্টির পর এত খারাপ বিশ্বকাপ আর বোধহয় হয়নি। সঙ্গে আবার ছিল ফাইনাল শেষে মারাদোনার কান্না, জীবনীকার জিমি বার্নসের কথায়, ‘ফাইনালে ব্রেহমের পেনাল্টি–গোলে হেরে শিশুর মতো কাঁদতে দেখেও অনেকেই তাই বিস্মিত হননি সেবার। পরাজয় মেনে নিতে না–পেরে কাঁদতে শুরু করা তো সেই প্রথম বার নয় মারাদোনার জীবনে!’

    (‌আগামিকাল ১৯৯৪ বিশ্বকাপ)

    1 comment:

    1. This comment has been removed by a blog administrator.

      ReplyDelete